লাইলাতুল কদর | এক মহিমান্বিত রাত
লাইলাতুল কদর কি?
আমি কুরআনকে কদরের রাতে নাযিল করেছি। তুমি কি জান কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ তাদের রব-এর অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। [সূরা কদর, ৯৭]
কবে লাইলাতুল কদর?
রমাদানের শেষ দশকে
- আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমাযানের শেষ দশকে, লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।
রমাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিতে।
- আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর।
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রমাযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করি। তিনি বিশ তারিখের সকালে বের হয়ে আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ আমাকে লাইলাতুল ক্বদর (-এর সঠিক তারিখ) দেখানো হয়েছিল পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তার সন্ধান কর। আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি (ঐ রাতে) কাদা-পানিতে সিজদা করছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে (মসজিদ হতে বের হয়ে না যায়)। আমরা সকলে ফিরে আসলাম (থেকে গেলাম)। আমরা আকাশে হাল্কা মেঘ খন্ডও দেখতে পাইনি। পরে মেঘ দেখা দিল ও এমন জোরে বৃষ্টি হলো যে, খেজুরের শাখায় তৈরি মসজিদের ছাদ দিয়ে পানি ঝরতে লাগল। সালাত শুরু করা হলে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কাদা-পানিতে সিজদা করতে দেখলাম। পরে তাঁর কপালে আমি কাদার চিহ্ন দেখতে পাই।
এত মহিমান্বিত একটি রাত যেনো মিস না যায় এজন্য আমরা রমাদানের শেষ দশকের দশ দিনেই আমল করবো ইন শা আল্লাহ।
লাইলাতুল কদরের আমল।
প্রিপারেশন
- আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রমাযানের শেষ দশক আসত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্র জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।
কিয়ামুল লাইল
- যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। [সহিহ মুসলিম]
ইতিকাফ
- আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমাযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।
কুরআন তিলাওয়াত
- এই রাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, সুতরাং এই রাতে প্রচুর কুরআনের তিলাওয়াত করা।
গুনাহ মাফের দুয়া
- আয়েশা (রা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি লাইলাতুল কদর-এ কি দুআ করব? তখন তিনি এ দুআটি শিখিয়ে দেন। হাদীসটি সহীহ। লাইলাতুল কাদর-এ সালাতের সাজদায়, সালামের আগে, সালামের পরে এবং অন্যান্য সকল দিনে ও রাতে সকল সালাতে ও সাধারণ সময়ে দুআটি পাঠ করা যায়।
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ(كَرِيْمٌ) تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
- হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল (উদার), আপনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
লাইলাতুল কদরের রাতে যা করা যাবেনা।
ঝগড়া
- উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের (নির্দিষ্ট তারিখ) অবহিত করার জন্য বের হয়েছিলেন। তখন দু’জন মুসলিম ঝগড়া করছিল। তা দেখে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, তখন অমুক অমুক ঝগড়া করছিল, ফলে তার (নির্দিষ্ট তারিখের) পরিচয় হারিয়ে যায়। সম্ভবতঃ এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
বেহুদা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং। দিনের বেলা ঈদের শপিঙে অতিরিক্ত সময় দেওয়া, যার ফলে রাতে আমল করার এনার্জি থাকেনা। মানুষ যদি অন্তর দিয়ে বুঝতো লাইলাতুল কদরের ফযিলত তাহলে রমাদানের শেষ দশদিন দুনিয়ার সব কিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে আল্লাহর নৈকট্যে পরে থাকতো। আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ মাফ করে দিন। বিশ্বের কোনায় কোনায় যত জায়গায় মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছে, সবাইকে মুক্ত করে দিন।